online সার্টিফিকেট

অনলাইন রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট I ONLINE RESIDENT CERTIFICATE

পশ্চিমবঙ্গে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট (Residential Certificate): প্রয়োজনীয়তা ও আবেদন পদ্ধতি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাগরিক পরিষেবাকে সহজ ও সুলভ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিষেবা অনলাইনে চালু করেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হলো রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট বা বাসিন্দা শংসাপত্র। সম্প্রতি রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও এই সার্টিফিকেট অনলাইনে প্রাপ্তি চালু হয়েছে, যা গ্রামীণ নাগরিকদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট কী?

রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট একটি সরকার প্রদত্ত দলিল, যা নির্দিষ্ট করে দেয় যে কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিরবিচারে বসবাস করছেন। এটি স্থানীয় প্রশাসনের (পঞ্চায়েত/ পৌরসভা / এসডিও অফিস) দ্বারা ইস্যু করা হয় এবং সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার একজন বাসিন্দা হিসাবে আপনার পরিচয় প্রমাণ করে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট?

বাসিন্দা শংসাপত্র কেবলমাত্র একটি ঠিকানার প্রমাণপত্র নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী দলিল যা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়। নিচে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগক্ষেত্র তুলে ধরা হলো:

 শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে:

ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রেই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়, বিশেষ করে যখন তারা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়।

 চাকরি বা সরকারি নিয়োগে:

বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির আবেদনে স্থানীয় বাসিন্দার প্রমাণ হিসেবে এই শংসাপত্র চাওয়া হয়। অনেক চাকরিতে “Domicile of West Bengal” উল্লেখ করতেই হবে।

কাস্ট, ইনকাম, ও বার্থ সার্টিফিকেটের সঙ্গে সংযুক্ত প্রমাণ:

অনেক সময় জাতি শংসাপত্র (Caste Certificate), আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate), এবং জন্ম শংসাপত্রের (Birth Certificate) ক্ষেত্রে বাসিন্দার প্রমাণপত্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

 স্কলারশিপ বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য:

সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন স্কলারশিপ, আর্থিক সহায়তা, বা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে হলে বাসিন্দার শংসাপত্র প্রয়োজন হয়।

 আইনগত বা জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায়:

যখন কোনো জমি বা সম্পত্তি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া হয়, তখন স্থানীয় বাসিন্দার প্রমাণ থাকা খুব জরুরি হয়।

কিভাবে অনলাইনে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট আবেদন করবেন?

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের eDistrict এবং Banglar Mukh ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারেন। পদ্ধতি মোটামুটি নিচের ধরণের:

  1. প্রথমে ওয়েবসাইটে যান:
    https://wbpms.in/citizen/
  2. নিবন্ধন করুন:
    নতুন ব্যবহারকারী হিসেবে নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
  3. আবেদন ফর্ম পূরণ করুন:
    আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ইত্যাদি) আপলোড করুন।
  4. ডকুমেন্ট আপলোড করুন:
    প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন আধার কার্ড, ভোটার আইডি, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি আপলোড করতে হবে।
  5. আবেদন জমা দিন রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ করুন।
  6. স্টেটাস চেক করুন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন:
    নির্দিষ্ট সময় পর আবেদন স্টেটাস চেক করে আপনি PDF আকারে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।

 

রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট বর্তমানে নাগরিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি শুধু আপনার ঠিকানা প্রমাণ করে না, বরং শিক্ষা, চাকরি, আইনগত বা সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এটি দরকার হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সার্টিফিকেট অনলাইনে ইস্যু করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা গ্রামের মানুষদের সময় ও খরচ বাঁচিয়ে ডিজিটাল পরিষেবার সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করবে। তাই সময় থাকতেই এই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সমস্যায় না পড়তে হয়।
এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি অনলাইন আবেদন করবেন নিজে নিজে। 

প্রথম ধাপ :  অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ আসুন।  https://wbpms.in/citizen/ নিচের মতো একটি পেজ খুলবে।  

অনলাইন রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট

দ্বিতীয় ধাপ : এই পেজ টি আসার পর একটু নিচের দিকে আসবেন।  নিচের দিকে একটি চেক বক্স দেখতে পাবেন।  ওখানে ক্লিক করে PROCEED করবেন।  ঠিক নিচের ইমেজ টার মতো 

তৃতীয় ধাপ : ” PROCEED ” এ ক্লিক করলে আপনাকে ফোন নম্বর চাইবে।  আপনি ফোন নম্বর দিলে একটি OTP পাঠাবে। নিচের চিত্রটি লক্ষ করুন। 

চতুর্থ ধাপ : ফোন নম্বর দেওয়ার পর OTP ভেরিফিকেশন করবে।  নিচের ইমেজটি দেখুন। 

পঞ্চম ধাপ : VERIFY & PROCCED এ ক্লিক করুন।  তাহলে নিচের মতো একটি পেজ খুলবে।  ওখানে আপনার যাবতীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করুন।  সব তথ্য সঠিক দেবেন। 
“RESIDENTIAL CERTIFICATE ” এটি ডিফল্ট হিসাবে টিক চিহ্ন দেওয়া থাকে।  
১  . যিনি আবেদন করছেন তার ভোটার আইডি অথবা আধার কার্ড যেকোনো একটি আপলোড করতে হবে।  
২  . আবেদন কারীর পিতা অথবা স্বামীর যেকোনো একটি ভোটার অথবা আধার আপলোড করতে হবে।  
৩। তারপর একটি ছবি  আপনাকে দিতে হবে আপলোড এর জন্যে।  
এরপর “SUBMIT ” বাটনে ক্লিক করুন।  
আপনার কাজ শেষ।  আপনাকে একটি REFERENCE নম্বর দেবে অতি ভালো করে রেখে দেবেন।  

ষষ্ঠ  ধাপ :  সাবমিট করলে আপনার আবেদন টি গ্রাম পঞ্চায়েতের পোর্টালে চলে যাবে।  গ্রাম পঞ্চায়েত APPROVAL দিলে আপনি সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।  সাবমিট করার পর নিচের মতো একটি পেজ দেখতে পাবেন।  যেখানে  “PENDING FOR APPROVAL ” দেখতে পাবেন।  

বিশেষ দ্রষ্টব্য : ডকুমেন্ট আপলোড করার আগে আধার কার্ড অথবা ভোটার কার্ডে ওই পার্ট এর পঞ্চায়েত মেম্বার এর স্বাক্ষর এবং সীল যেন অবশ্যই থাকে।  নতুবা APPROVAL পাবেন না।  

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top